বর্ষা শেষ হয়ে গেছে, তবু পানি সরেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই আবারও তলিয়ে যায় পুরো মাঠ। মাসের পর মাস জমে থাকা পানিতে পচা দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব আর কাদাপানির ভোগান্তি নিয়েই বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে শিশুদের। মাঠ পানির নিচে থাকায় বন্ধ রয়েছে খেলাধুলা ও শরীরচর্চাও।
এমন দুর্ভোগ চলছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ১২৫ নম্বর চন্দ্রপাড়া সর্দার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে সেই পানি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। বর্ষা শেষ হলেও মাঠ শুকাতে সময় লাগে আরও কয়েক মাস। ফলে বছরের প্রায় চার মাসই মাঠটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে পচা দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বেড়ে যায় মশার উপদ্রব। বাধ্য হয়ে সেই পানি মাড়িয়েই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকায় নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জলাবদ্ধতার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যাতেও। একসময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের একটি বড় সময় বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে ডুবে থাকলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং মাঠটি মাটি দিয়ে উঁচু করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল ও খেলাধুলার পরিবেশ ফিরবে বলে মনে করছেন তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তাহিদা বেগম বলেন, মাঠটি নিচু হওয়ায় হালকা বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় মাঠ পানির নিচে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া, খেলাধুলা এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে উঁচু করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক উপকার হবে।
বিদ্যালয়ের মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে উঁচু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন তাকে আশ্বস্ত করেছে। শিগগিরই বিদ্যালয়ের মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে—বিষয়টি তিনি অবগত। শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে সামর্থ্যের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।