বিমা খাতে দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি নিয়ে গ্রাহকদের অনাস্থা কাটাতে সরাসরি মাঠে নেমেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বছরের পর বছর আটকে থাকা বৈধ দাবি পরিশোধের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৃতীয় দফায় ৭ হাজার ৬৪১ জন পলিসিধারীর ২৬ কোটি ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩০ টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। এর আগে দুই দফায় আরও ৮ হাজার ৪১৭ জনের দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন দফায় ১৬ হাজার ৫৮ জন পলিসিধারীর ৬৩ কোটি ৯১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৭ টাকা পরিশোধের আওতায় এসেছে। অথচ পুরো বিমা খাতে দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে সীমিত পরিসরে দাবি পরিশোধ শুরু হলেও বিপুল বকেয়া নিষ্পত্তিই এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আইডিআরএ জানিয়েছে, প্রথম দুই দফায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয় থেকে সরাসরি গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করা হলেও এবার সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানিগুলো নিজ নিজ কার্যালয় থেকে অর্থ পরিশোধ করছে। পুরো কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছে আইডিআরএ। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় সাতটি জীবন বিমা কোম্পানির ২ হাজার ৫৪৯ জন পলিসিধারীর ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার ১৪৬ টাকা ৫৮ পয়সা এবং দ্বিতীয় দফায় ৫ হাজার ৮৬৮ জনের ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকা দাবি পরিশোধ করা হয়। আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনের নেতৃত্বে নেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু বকেয়া দাবি পরিশোধ নয়; একই সঙ্গে বিমা খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সম্পদ, সিকিউরিটি বন্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের সংস্থান করে দীর্ঘদিনের অপরিশোধিত বৈধ দাবি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আইডিআরএর মতে, বৈধ দাবি দ্রুত পরিশোধের মাধ্যমে পলিসিধারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থাও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক দফায় কয়েকশ কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করলেই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না; প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বকেয়া নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যতে নতুন করে দাবি আটকে না রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ ও দায়ের ওপর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে দাবি পরিশোধ নিশ্চিত করা জরুরি।
আইডিআরএ জানিয়েছে, অবশিষ্ট বৈধ ও অপরিশোধিত দাবিগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে কি না—তার ওপরই নির্ভর করছে খাতটিতে গ্রাহকের আস্থা কতটা ফিরবে।