চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ও পোড়া ফার্নেস অয়েলের স্লাজে দূষিত হচ্ছে স্থানীয় মইল্ল্যা খাল। এ দূষিত পানি সাঙ্গু নদে মিশে পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে চালু হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বর্জ্য ও পোড়া তেলের স্লাজ দীর্ঘদিন ধরে খালে মিশে আসছে। এতে খালের পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর উপস্থিতিও কমে গেছে।
সম্প্রতি জুলাই মাসের বন্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে জমে থাকা স্লাজ আশপাশের লোকালয় ও কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে গত ১২ সেপ্টেম্বর দূষণ বন্ধ ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বর্তমানে খাল থেকে স্লাজ অপসারণের কাজ শুরু করেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় মইল্ল্যা খালের পানি ব্যবহার করে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে শতাধিক কৃষক চাষাবাদ করতেন। কিন্তু খালের পানি দূষিত হয়ে পড়ায় কৃষিকাজও ব্যাহত হচ্ছে। দূষণ অব্যাহত থাকলে এসব জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু খাল নয়, জোয়ারের স্রোত ও বৃষ্টির পানির সঙ্গে দূষিত বর্জ্য সাঙ্গু নদেও গিয়ে পড়ছে। এতে নদীর পানি ও জলজ পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদী গবেষক ও বিসিজি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, জোয়ারের স্রোত ও বৃষ্টির পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্লাজ সাঙ্গু নদে মিশে নদীর স্বাভাবিক গুণাগুণ ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরনের দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মান্নান বলেন, অতিবৃষ্টি ও ওভারফ্লোর কারণে কিছু তৈলাক্ত বর্জ্য খালে পড়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের পর শ্রমিক নিয়োগ করে খাল থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক মঈনুদ্দিন ফয়সাল জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, খাল থেকে স্লাজ সরিয়ে সাময়িকভাবে পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য নিষ্কাশন ও পরিশোধনের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত পরিবেশগত নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।