সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১২তম দিনে গড়িয়েছে। শনিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে দ্রুত সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে লেখা বিভিন্ন ব্যানার দেখা যায়। তারা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসনের নীরবতায় তারা ক্ষুব্ধ। আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে উল্লেখ করে দ্রুত সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে চান বলেও জানান।
আন্দোলনের কারণে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটের ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
যেভাবে শুরু আন্দোলন
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। এর ৫৬ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সমাধানের কথা বললেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত তিনি চুয়েট ক্যাম্পাসে যাননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এদিকে আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দ্রুত সংকটের সমাধান করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন।