দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে ফেনীতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বৃক্ষরোপণ এবং মাটি কেটে ও ড্রেজার চালু করে প্রকল্পের নদী খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
ফেনীর উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মুহুরী-কহুয়া নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে পরশুরাম, ফুলগাজীসহ নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রতিবছর যে বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, তা কমাতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন করা হবে। পাশাপাশি ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাশয় পুনঃখনন করা হবে।
এ ছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ বা পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজের মাধ্যমে নদীর পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুহুরী-কহুয়া নদী অববাহিকায় উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টির পানি বাড়লে বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। এতে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, সড়কসহ স্থানীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
প্রকল্পের বাঁধ পুনর্বাসন, নদী পুনঃখনন ও নদীতীর সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়িত হলে বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ফেনীর নদীপাড়ের মানুষের কাছে বন্যা ও জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। তাই ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার এই প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে বিশেষ প্রত্যাশা।
প্রকল্পের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বহুদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হলো।
এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বড় দায়িত্ব। ফেনীবাসীর প্রত্যাশা, বাঁধ পুনর্বাসন, নদী খনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে কমবে বন্যা-জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ।