সুন্দরবন রক্ষায় সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তাগিদ

বাগেরহাট সংবাদদাতা

সারাদেশ

সুন্দরবনের দূষণ কমানো, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেশব্যবস্থা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে প্লাস্টিক দূষণ কমানো, বর্জ্য

2026-09-29T18:32:43+00:00
2026-09-29T18:32:43+00:00
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সুন্দরবন রক্ষায় সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তাগিদ
বাগেরহাট সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সুন্দরবনের দূষণ কমানো, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেশব্যবস্থা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে প্লাস্টিক দূষণ কমানো, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও তরুণদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। হেলভেটাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় রূপান্তরের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। এ সময় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দীন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল কাদের, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন, রূপান্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা খন্দকার জিলানী হোসেন, প্রকল্প সমন্বয়কারী সুভাষিস ভট্টাচার্য, হেলভেটাসের প্রোগ্রাম প্রধান শাহরিয়ার মান্নান ও সাংবাদিক এস এম সামছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

সভায় বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গেও এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সুন্দরবনের নদী-খাল, বনভূমি ও জলাভূমির ওপর নির্ভর করে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা। তাই এই প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষার দায়িত্ব শুধু বন বিভাগ বা পরিবেশ অধিদপ্তরের নয়; প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, ব্যবসায়ী, উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষার্থী ও তরুণদেরও ভূমিকা রয়েছে।

বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উপকূলীয় পরিবেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। যত্রতত্র ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও পলিথিন নদী-খালের মাধ্যমে সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করে পানি ও মাটি দূষিত করছে। পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, পরিবহন ও পুনর্ব্যবহারের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শুধু মানুষকে সচেতন করলেই হবে না, বর্জ্য কোথায় ফেলা হবে, কীভাবে সংগ্রহ করা হবে এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য কীভাবে আলাদা করা হবে—এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিও নিশ্চিত করা জরুরি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দীন বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তুলতে সচেতনতা, শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ বলেন, প্লাস্টিক দূষণ কমানো ও সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষায় অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা নেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে এর অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন ও নীতিমালার প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

সভায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দূষণের উৎস ও পরিবেশের ক্ষতি তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক উদ্যোগগুলোও গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা প্রয়োজন।

সভায় প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, বর্জ্য সংগ্রহ ও পৃথকীকরণ ব্যবস্থা জোরদার, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, ইয়ুথ লিডার ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: