বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা। একই সঙ্গে বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু, টেকসই উন্নয়ন ও বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও জোরদারের কথা জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তারা এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি অভিনন্দনের জন্য ইইউ রাষ্ট্রদূতদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপের অংশীদারত্ব এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউ এবং এর সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানান।
সাক্ষাতে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে এবং আরও ইইউ সদস্যরাষ্ট্রকে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও ইইউ এর আগে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূতরা পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তারা বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগে অব্যাহত সহযোগিতার কথাও জানান।
সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউর আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রদূতরা এ বিষয়ে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান।
সাক্ষাতে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার ছাড়াও ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকও উপস্থিত ছিলেন।