জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের মাধ্যমে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, সার্বিক বিবেচনায় এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে। বিভিন্ন সভা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও আত্মমর্যাদাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রও এর আগে নিউইয়র্ক সফরে ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের তথ্য জানিয়েছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ ছাড়া কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক
হুমায়ুন কবির জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ ছাড়া মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হলো, এবারের অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯ ভোট পান।