নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা পাথর পরিবহনের সময় পাথরবোঝাই একটি ট্রাক আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ট্রাকের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার তিস্তা নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—ট্রাকচালক আহসানুল ইসলাম (৩৮) ও হেলপার রাশেদ (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়া পাথর উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। উত্তোলন করা এসব পাথর পরে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিমলা থানার পুলিশ জানায়, একটি পাথর ব্যবসায়ী চক্র তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা পাথর ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাকটি আটক করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ট্রাকে থাকা পাথর বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিস্তা নদী থেকে উত্তোলন করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে সেগুলো অন্যত্র নেওয়ার জন্য পরিবহন করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ডিমলা থানায় খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তা নদীর বালু-পাথরকে কেন্দ্র করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সুযোগ বুঝে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। এতে তীরবর্তী বসতি, সড়ক, বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর বিক্রির কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
তবে স্থানীয়দের করা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ডিমলা থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা পাথর পরিবহনের সময় একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ সময় চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।