সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচিকে এক ছাতার নিচে আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে চালু থাকা সহায়তা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ইউনিভার্সাল কার্ড চালু করা হবে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। এটিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছায়।
এ লক্ষ্যেই অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড। এসব কার্ডের সমন্বয়ে ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক ফ্যামিলি কার্ড
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যেন সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে।
৩১ দফা বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরলেন
জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির ৭৩ শতাংশ কার্যক্রম জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ‘Leave No One Behind’ নীতির সঙ্গে সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ পরোক্ষভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সরকার আশা করছে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের উন্নয়ন বৈষম্য কমবে এবং ২০৩০ এজেন্ডার আওতায় জবাবদিহি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
শিক্ষায় ব্যয় বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ও দুপুরের খাবার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ, পোশাক ও স্কুল ইউনিফর্মের পাশাপাশি বিনামূল্যে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষার মান বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও শিক্ষাক্রমে প্রথমবারের মতো ‘স্পোর্টস’কে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান তিনি। গত জুনে সারাদেশে আয়োজিত মাসব্যাপী স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলেও জাতিসংঘে জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কাঠামোর কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।