এক কলেজ, অথচ অধ্যক্ষ দুজন—এমন জটিলতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ। গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনকে ঘিরে দুই ব্যক্তিকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে গভর্নিং বডির মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদুল হাসানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১ জুন গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে শহীদুল হাসানকে এক বছরের জন্য অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে আগস্টে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সুফিয়া খাতুনকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে শহীদুল হাসান দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় একই পদে দুইজনকে ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়।
শহীদুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনিও বিব্রত। গভর্নিং বডির সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি সভাপতিকে জানিয়েছেন। তবে কলেজ থেকে চলে যাওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাননি। সিদ্ধান্ত পেলে তিনি চলে যাবেন।
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়া সুফিয়া খাতুনের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশে তিনি দায়িত্ব নিতে কলেজে এলেও নানা অজুহাতে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
দুই অধ্যক্ষের বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলেজে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘অবৈধ প্রিন্সিপাল, মানি না মানবো না’, ‘আওয়ামী লীগের দালাল, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রহমতুল্লাহ বলেন, গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে শর্ত ছিল—সরকার কাউকে দায়িত্ব দিলে আগের চুক্তি বাতিল হবে। সে অনুযায়ী শহীদুল হাসানের চুক্তি বাতিল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রহমতুল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু তিনি যাচ্ছেন না। আমরা বড় সমস্যায় আছি। দুই অধ্যক্ষ এক রুমে বসছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এর একটা বিহিত করা প্রয়োজন।’
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর দুই অধ্যক্ষ, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, শিক্ষক ও একজন অভিভাবক প্রতিনিধি বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে আগামী রবিবার গভর্নিং বডির সভা ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সভায় দুই অধ্যক্ষকে ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়ে আলোচনা হবে এবং সেখানেই বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।