সৌদি আরবকে সামরিকভাবে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে এলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে মার্কিন জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুথিদের সামরিক উপদেষ্টা আবেদ মোহাম্মদ আল-থাওর এসব হুঁশিয়ারি দেন।
আল-থাওরের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করে অথবা বাব আল-মানদেবের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের চেষ্টা চালায়, তাহলে সেটিকে হুথিরা বড় ধরনের আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করবে। এমন পরিস্থিতিতে তারা সংঘাত আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নেবে বলে জানান তিনি।
বাব আল-মানদেব প্রণালী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
হুথিদের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের তীব্র সংঘর্ষও হয়েছে।
হুথিদের সামরিক উপদেষ্টা দাবি করেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে অভিযান অব্যাহত রাখলে তেল ও শিল্প খাতসহ দেশটির অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
আল-থাওর বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা, আকাশপথে সহায়তা কিংবা অন্য কোনো সামরিক সহযোগিতা দিলে ইয়েমেন ও আশপাশের অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হুথিদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
মার্কিন নৌযানগুলোর জন্য বাব আল-মানদেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হুথিরা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও আল-থাওর দাবি করেছেন, তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সরাসরি তেহরান নিয়ন্ত্রণ করে না।
তার ভাষ্য, ইরান তাদের বন্ধু ও মিত্র হলেও হুথিরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয় এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, চলমান পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক মাসে নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি হতে পারে।
দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিপুল প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যয়নের পর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: এএফপি