বছরের পর বছর ধরে জনবসতি বাড়ছে, ঘরে ঘরে পৌঁছেছে বিদ্যুৎ। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন বসতবাড়ি। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রায় ১৫ বছর ধরে মাটির রাস্তা দিয়েই চলাচল করছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালুয়া গ্রামের নতুন পল্লীর দুই শতাধিক মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই দুর্ভোগ চরমে ওঠে। বৃষ্টিতে মাটির রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়রা-পাইকগাছা প্রধান সড়কের পাশে কালুয়া আলিম মাদ্রাসার কাছ থেকে জিবারুল ফকিরের বাড়ি হয়ে মনজুরুল পটল গাজীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে নতুন এই পল্লী। স্থানীয়দের হিসাবে, বর্তমানে এখানে দুই শতাধিক মানুষের বসবাস। প্রতিনিয়ত নতুন পরিবার বসতি গড়ায় বাড়ছে জনসংখ্যাও।
স্থানীয়রা জানান, গজালিয়া ও কালুয়া গ্রামের অনেক পরিবার পুরোনো বসতভিটা ছেড়ে কয়েক বছর ধরে এ এলাকায় জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। নিচু ও বিলান জমি ভরাট করে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে নতুন জনপদ। তবে মানুষের বসতি বাড়লেও সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি সড়ক যোগাযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিবার রহমান সরদার বলেন, প্রতিবছরই এ এলাকায় মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২৮০ ফুট এলাকাজুড়ে বসতি বিস্তৃত হয়েছে। নতুন নতুন পরিবার আসছে, কিন্তু রাস্তার স্থায়ী কোনো উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ থাকলেও বৃষ্টি হলে মাটির রাস্তায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তাটি সংস্কার করে অন্তত ইটের সলিং করা হলে দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
কালুয়া আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক তুহিন বলেন, দিন দিন এ এলাকায় জনবসতি বাড়ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে এ অঞ্চলে মানুষের বসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে।
চাঁদখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সরদার বলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে এখানে অনেক মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে। সরকারি অনুদানের মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, চাঁদখালী ইউনিয়নে এমন একটি নতুন জনবসতির বিষয়ে তাঁর জানা নেই। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নতুন এই জনপদকে দ্রুত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় এনে মাটির রাস্তাটি সংস্কার ও ইটের সলিং করা হোক। তাদের প্রশ্ন, প্রায় ১৫ বছর ধরে জনবসতি গড়ে ওঠার পরও একটি স্থায়ী রাস্তা না হলে এই এলাকার মানুষ আর কতদিন মাটির পথেই চলাচল করবেন?