৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় যাবে সব পাঠ্যবই

ভোরের ডাক ডেস্ক

শিক্ষা

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে পরিমার্জিত ও মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে তোড়জোড় চলছে। আগামী ৩০

2026-09-23T15:35:00+00:00
2026-09-23T15:35:00+00:00
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষা
৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় যাবে সব পাঠ্যবই
৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বছরের প্রথম দিনেই বই দিতে প্রস্তুতি, মান নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’
ভোরের ডাক ডেস্ক
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে পরিমার্জিত ও মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে তোড়জোড় চলছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এবার শুধু সময়মতো বই সরবরাহ নয়, বইয়ের মান নিশ্চিত করতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মানদণ্ডে না পড়ায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন ছাপাখানার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল ও বিনষ্ট করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি সূত্র জানায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ছাপাখানায় প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন স্তরের বই ছাপার কাজ পুরোদমে চলছে। মুদ্রণ থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে বই গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মান যাচাই করা হচ্ছে।

এ কাজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং দল মাঠে কাজ করছে। ছাপাখানাগুলোতে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত সরেজমিনে নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এনসিটিবির বিতরণ শাখার এক কর্মকর্তা জানান, প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে বাঞ্ছারামপুর ও সরাইলসহ দেশের কয়েকটি উপজেলায় বই পাঠানো শুরু হয়েছে।

তার ভাষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় শতভাগ বই পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে ইংরেজি ভার্সন ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিশেষ বইগুলো জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে।

এনসিটিবির ২২ সেপ্টেম্বরের উৎপাদন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তর মিলিয়ে এবার মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে।

এবার গত বছরের তুলনায় এক মাস আগে বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। এনসিটিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১১৩টি প্রেসের মধ্যে বর্তমানে ৯১টি ছাপাখানায় বই মুদ্রণের কাজ চলছে।

উৎপাদন প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৩টি, অর্থাৎ ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছাপা শেষ হয়েছে।

প্রাথমিক স্তরের ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬টি, যা মোটের ৩৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের ২২ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯২টি বইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০টি বই ছাপা শেষ হয়েছে। এ স্তরে মুদ্রণ অগ্রগতি ৭ শতাংশ।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ গোলাম ফখরুল মাওলা বলেন, বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত পাঠ্যবই উপজেলায় পৌঁছাতে মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি কাজ করছে।

এনসিটিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন বইয়ের কাগজের জিএসএম, উজ্জ্বলতা ও মুদ্রণমান নিশ্চিত করতে প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) এজেন্সির পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষাও করা হচ্ছে। র‌্যান্ডম ভিত্তিতে নয়টি প্রেসের কাগজের নমুনা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় নমুনাগুলো মানসম্মত পাওয়া গেছে।

এবার শুধু মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান নয়, বই গ্রহণের সময় অনিয়ম বা শৈথিল্য ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছে এনসিটিবি।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, বই গ্রহণের পরও মান নিয়ে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রহীতা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় মিলে গঠিত ৫৩টি মনিটরিং টিমের মধ্যে এনসিটিবির ৩৩টি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাতটি টিম ছাপাখানায় নজরদারি করছে। পাশাপাশি এনসিটিবির সচিব ও সদস্যদের নেতৃত্বে পাঁচটি বিশেষ টিমও মাঠে কাজ করছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহের ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাগজের বই কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বা কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছে দিতে রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রেস মালিকদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই সরবরাহ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির লক্ষ্য, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা যেন নতুন শ্রেণির পুরো সেট বই হাতে পায়।


Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: