চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে বর্তমানে ১৪০টি পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে বড় ধরনের জনবল ঘাটতি। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও তদারকি কার্যক্রম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়ার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৪৯টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৬ জন। ফলে ৯২টি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
শূন্য পদগুলোর মধ্যে ৪৬টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্বে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষকের ক্ষেত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা। উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ৯৫৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৮৭৪ জন। ফলে ৪৮টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে উপজেলার ১ হাজার ১০৫টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের মধ্যে ১৪০টি পদই বর্তমানে ফাঁকা। অর্থাৎ মোট শিক্ষক পদের প্রায় ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ শূন্য রয়েছে।
উপজেলায় ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক সংকট থাকায় কর্মরত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত পাঠদানের চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় একাডেমিক মনোযোগ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শুধু বিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে জনবল সংকট।
অনুমোদিত সাতটি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এইউইও) পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে।
এ ছাড়া অফিস সহকারীর অনুমোদিত দুটি পদের দুটিই বর্তমানে খালি। সব মিলিয়ে শিক্ষা অফিসের অনুমোদিত পাঁচটি কর্মচারী পদের মধ্যে চারটিই শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, একাডেমিক তদারকি এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে চাপ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এসব শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।
সাতকানিয়া উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আনিসুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা গেলে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে আসবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমদ বলেন, সাতকানিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অফিসে শূন্যপদের বিষয়টি তাদের দপ্তরের জানা রয়েছে।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক এসব শূন্যপদ পূরণের জন্য নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা দেওয়া হচ্ছে।
জনবল ঘাটতির কারণে পাঠদান ও তদারকিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, বদলি, পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিগগিরই শূন্যপদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
শিক্ষক ও প্রশাসনিক জনবল সংকট দ্রুত নিরসন করা গেলে সাতকানিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও তদারকি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।