বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থায়ী স্পিডব্রেকারের দাবিতে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ঘটনাস্থলে স্পিডব্রেকার নির্মাণকাজ শুরু করলে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুরদের ওপর দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস উঠে গেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাজমুল (৪৫) নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি জয়পুরহাট জেলায়। এর আগে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আমিরুল ও নূর আলমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে একজন শ্রমিকের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুরেরা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারে কাজের আশায় জড়ো হন। সেখান থেকেই স্থানীয়রা তাদের দৈনিক মজুরিতে কাজে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গিয়ে উল্টো দিকে ঘুরে থেমে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে সওজ বিভাগ স্পিডব্রেকার নির্মাণকাজ শুরু করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।