নতুন সম্ভাবনা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প

সুমন হাওলাদার

বাণিজ্য

বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (শিপ রিসাইক্লিং) শিল্প এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত। দেশের নির্মাণ ও ইস্পাত শিল্পের কাঁচামালের বড় একটি অংশ

2026-07-27T13:57:27+00:00
2026-07-27T13:57:43+00:00
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
বাণিজ্য
এলডিসি-পরবর্তী অর্থনীতি
নতুন সম্ভাবনা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প
সুমন হাওলাদার
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম  আপডেট: ২৭.০৭.২০২৬ ১:৫৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (শিপ রিসাইক্লিং) শিল্প এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত। দেশের নির্মাণ ও ইস্পাত শিল্পের কাঁচামালের বড় একটি অংশ আসে এই শিল্প থেকে। 

হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান, সরকারের রাজস্ব আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ খাত। নির্মাণ শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, জাহাজের যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য। 

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক নীতিগত সহায়তা, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে এই শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১৪৪টি, ২০২১ সালে ২৫৪টি, ২০২২ সালে ১২২টি, ২০২৩ সালে প্রায় ১৭০টি এবং ২০২৪ সালে প্রায় ১৩০টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের জন্য আমদানি করা হয়েছে। ডলার সংকট, এলসি খোলার জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানির প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে।

সম্প্রতি বাণিজ্য,শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। 

তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। 

জাইকার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘জাইকা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প’ নেওয়া হয়েছ। যা দেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

এর মাধ্যমে ইয়ার্ডের সক্ষমতা মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ সুবিধা পরিকল্পনা (এসআরএফপি) যাচাই ও সনদ প্রদান এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ পরিকল্পনা (এসআরপি) অনুমোদন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতে অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমাতে একটি একক সেবা অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. কে. এ. এস. মুরশিদ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও শ্রমিক নিরাপত্তার মান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। 

যারা এই মান পূরণ করতে পারবে, তাদের জন্য ইউরোপসহ উন্নত দেশের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ জন্য এখন থেকেই আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর শুধু শুল্ক সুবিধা নয়, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মান-অনুসরণের চাপও বাড়বে। তাই জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব না করলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ী খাত হিসেবে আরও শক্তিশালী হবে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক হংকং কনভেনশনের শর্ত পূরণে বেশ কয়েকটি ইয়ার্ড আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আরও অনেক ইয়ার্ডে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নত দেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের বড় বাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, ডলার সংকট নিরসন, দ্রুত এলসি অনুমোদন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসআরবি) বলছে, দেশে বছরে ১ কোটিরও বেশি মেট্রিক টন জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা রয়েছে। এই শিল্প দেশের মোট লোহার চাহিদার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পূরণ করে। ৩০০টির বেশি রি-রোলিং স্টিল মিল এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। সরাসরি ৩০ থেকে ৫০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে প্রায় দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই খাতে। সরকারও বছরে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব পায়।

বাংলাদেশে পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি জাহাজ আসে সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, গ্রিস, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন থেকে। 

এসব দেশের পুরোনো বাল্ক ক্যারিয়ার, তেলবাহী জাহাজ এবং কনটেইনার জাহাজ সীতাকুণ্ডের ইয়ার্ডে ভেঙে পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্টিল, যন্ত্রাংশ, কেবল, জেনারেটর ও অন্যান্য ভারী সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়। এসবের অধিকাংশই দেশের শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়, আর কিছু যন্ত্রাংশ বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিক নিরাপত্তা এবং বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর মানদণ্ড কার্যকর হচ্ছে। হংকং কনভেনশনের শর্ত পূরণে বাংলাদেশকে সব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ইয়ার্ড আধুনিকায়ন করতে হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তাদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হচ্ছে।

এদিকে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ইয়ার্ড পরিদর্শন করে বলেন, ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই শিল্পে পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা দেবে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের শীর্ষ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণকারী দেশ ছিল এবং সেই অবস্থান পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। এবং অন্যগুলোকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের শিল্প খাতে আন্তর্জাতিক মান মেনে চলার চাপ আরও বাড়বে। জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপসহ উন্নত দেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের বড় বাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. কে. এ. এস. মুরশিদ বলেন, এই শিল্প শুধু স্ক্র্যাপ স্টিল উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের শিল্পায়নের ভিত্তি। 

প্রযুক্তি, পরিবেশ সুরক্ষা ও দক্ষ জনশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে এই শিল্প অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে। 

সঠিক পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আগামী দিনে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ এবং টেকসই শিল্পায়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। এলডিসি-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে এই শিল্প।

গত জুন মাসে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নেতৃবৃন্দ পরিবেশ ও শিল্প মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বর্তমানে এই ইয়ার্ডগুলোকে মাত্র ১ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। প্রতি বছর লিজ নবায়নের ঝুঁকি কাটাতে এবং এই শিল্পে স্থায়িত্ব আনতে তারা ১ বছরের পরিবর্তে একবারে ১০ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

এতে করে ব্যবসায়ীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের গ্রিন ইয়ার্ড গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বা বড় বিনিয়োগ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন।

এ সময় তারা জানান, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই শিল্পের জন্য দ্বিতীয় বড় দাবিটি ছিল ‘ক্যাটাগরি বা সিগন্যাল’ পরিবর্তন।

ইতোমধ্যেই দেশের বেশ কয়েকটি ইয়ার্ড সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই এই খাতের আধুনিকায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ এটিকে লাল সিগন্যাল থেকে মুক্ত করে হলুদ কিংবা সবুজ সিগন্যালে স্থানান্তর করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এর ফলে পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) বর্তসমান সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য শিপ ব্রেকিং শিল্পের ধারাবাহিক ও টেকসই উন্নতি সাধন। 

ইতোমধ্যে এখানে যেসব গ্রিন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড হয়েছে, তা বিশ্বেমানের দিক থেকে শীর্ষে। সেই মান ধরে রাখতে চাই। আগামীতে আমদের এই শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকারেকে আমাদের প্রয়োজনীয় ঋণ ও নীতি সহায়তা দিতে হবে। 

পাশাপাশি ডলার সংকটের কারণে বড় মূল্যের জাহাজ আমদানিতে এলসি খুলতে দীর্ঘ সময় লাগছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতেও বিলম্ব হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ, দ্রুত এলসি অনুমোদন এবং কর-সুবিধা দেয়, তাহলে বাংলাদেশ আবারও বিশ্বের শীর্ষ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণকারী দেশ হিসেবে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে।

বিএসবিআরএর সাবেক সভাপতি আলহ্জ্ব আবু তাহের বলেন, বর্তমানে এই ইয়ার্ডগুলোকে মাত্র ১ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। 

উদ্যোক্তাদের মতে, মাত্র এক বছরের লিজ নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বা বড় বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। প্রতি বছর লিজ নবায়নের ঝুঁকি কাটাতে এবং এই শিল্পে স্থায়িত্ব আনতে তারা ১ বছরের পরিবর্তে লিজ দেওয়ার সময় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তা না হলে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধকরা কষ্টসাধ্য। সময় বৃদ্ধি না করলে আধুনিক বাংলাদেশ এখন পরিবেশসম্মত হংকং কনভেনশন মেনে ‘গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং’-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যা বাধাগ্রস্ত করবে।

জানা গেছে, পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ সম্মতভাবে স্ক্র্যাপ জাহাজ (পুরাতন) ভাঙার জন্য ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো দেশে গ্রিন শিপব্রেকিং (জাহাজভাঙা) ইয়ার্ডের প্রচলন শুরু হয়। 

২০২৩ সাল পর্যন্ত হংকং কনভেনশন (প্রচলিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড) অনুযায়ী কেবল দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রিন ইয়ার্ডের আন্তর্জাতিক সনদ পায়। তবে সে বছরের জুন থেকে হংকং কনভেনশনে বাংলাদেশের অনুসমর্থন কার্যকর হওয়ার পর দ্রুতই বাড়তে থাকে গ্রিন ইয়ার্ডের সংখ্যা। বর্তমানে গ্রিন সনদপ্রাপ্ত ইয়ার্ডের সংখ্যা ৩১টি।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) তথ্যমতে, এক একটি গ্রিন ইয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে আকারভেদে ৫০-১০০ কোটি টাকার বেশিও খরচ করছেন শিল্প মালিক ও উদ্যোক্তারা। 

গত ছয় বছরে যেসব ইয়ার্ড গ্রিন সনদ পেয়েছে সেগুলোর অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তারা। 

এসব অর্থ দিয়ে আধুনিক ক্রেন, ভারী যন্ত্রপাতি, উন্নত মেঝে, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত মানোন্নয়ন এবং শ্রমিক নিরাপত্তা অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে।


Loading...
Loading...

বাণিজ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: