আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কাও রয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা সংলগ্ন উজান এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি কিছুটা কমলেও যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমছে এবং আগামী দুই দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। এছাড়া কক্সবাজারে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরা ও আসাম অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে পড়ছে।
সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের কোনো নদী এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না। তবে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।