দেশে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার কেনাবেচায় বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট অঙ্কের (ফিক্সড) ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ভরি সোনার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে কমানো হচ্ছে উৎসে করও।
বর্তমানে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। ফলে ২২ ক্যারেট মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা হলে ভ্যাট দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার ৫০০ টাকার মতো। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রতি ভরিতে ভ্যাট নেমে আসবে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, অর্থাৎ ভ্যাট কমবে প্রায় ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব থাকলেও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবির পর তা কমিয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতে উৎসে করও কমানোর প্রস্তাব রয়েছে, যা ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হতে পারে।
বর্তমানে স্বর্ণ খাত থেকে বছরে ১৫০ কোটি টাকার কম ভ্যাট আদায় হয়। নতুন ফিক্সড ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হলে এই খাত থেকে রাজস্ব আয় বেড়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) প্রাক-বাজেট আলোচনায় ফিক্সড ভ্যাট ব্যবস্থার দাবি জানায়। সংগঠনটির মতে, নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট নির্ধারণ করা হলে আরও বেশি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান করের আওতায় আসবে এবং ভ্যাট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হবে।
এনবিআরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বর্ণ ব্যবসায় খাতে ভ্যাট কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।