মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি বজ্রপাতের শঙ্কা ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ম্যাচটি থামার সময় জয়ের খুব কাছাকাছি ছিল বাংলাদেশ।
২৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য শেষ ৪৬ বলে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৯৪ রান, হাতে ছিল মাত্র ১ উইকেট—ফলে কার্যত জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ বোলিংয়ে চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ। এরপর পরের ওভারেই মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করেন মোস্তাফিজুর রহমান, রিভিউয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং বাংলাদেশ পায় দ্বিতীয় উইকেট।
পরে জশ ইংলিসকে দুর্দান্ত গতির ডেলিভারিতে পরাস্ত করেন নাহিদ রানা। ইংলিস উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। অস্ট্রেলিয়া ৫১ রানে হারায় তৃতীয় উইকেট।
দীর্ঘ চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন বল হাতে ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেন। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই কুপার কনোলিকে বোল্ড করে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি। পরে ম্যাট রেনশকেও এলবিডব্লিউ করেন মোসাদ্দেক।
নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেকের বোলিং নৈপুণ্যে ১০০ রানের আগেই ৪ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা।
অ্যালেক্স ক্যারি ৪৭ রানে আউট হন নাহিদ রানার গতির কাছে পরাস্ত হয়ে। পরে টেইল-এন্ডেও ধারাবাহিক আঘাতে ১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
তবে একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান ক্যামেরন গ্রিন। ৬৪ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে দলকে যতটা সম্ভব লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে ৭০ বলে ৮৬ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৬৭ রান, আর তানজিদ তামিম করেন ৫৪ রান। শেষ দিকে ১৫ বলে ২০ রানের কার্যকর ইনিংস যোগ করেন তাসকিন আহমেদ।
বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে ম্যাচ বন্ধ থাকায় এখন সবার অপেক্ষা—শেষ উইকেটটি পড়ে বাংলাদেশ কি নিশ্চিত করবে ঐতিহাসিক জয়?