কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির পর গৃহবধূ ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ব্যবসায়ীর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ওই সময় ব্যবসায়ী বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রী ও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে বাড়িতে ছিলেন। ডাকাতরা তাদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে মা ও মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মেয়েটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন (২৩), কেফায়েত হোসেন (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)। তারা সবাই মাতামুহুরী উপজেলার বাসিন্দা।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।