বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন পরিচয়পত্র পেশ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব সরওয়ার আলম বিষয়টি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। স্যামসাং, হুন্দাইসহ শতাধিক কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান দেশের ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন একটি অনুকূল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে, যা বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সহায়ক।
তিনি বিশেষভাবে হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য-প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক ও অবকাঠামো খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখায় দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং এলডিসি উত্তরণের পরও অন্তত আরও চার বছর এ সুবিধা চালু রাখার অনুরোধ জানান।
তিনি কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) দ্রুত স্বাক্ষরের অগ্রগতিকেও স্বাগত জানান।
এছাড়া, বাংলাদেশ-কোরিয়া পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী এবং দেশটির ঋণ সহায়তা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট রাষ্ট্রদূতকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।