বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যেও খুলনার পাইকগাছায় এবছর আশানুরূপ কাঁঠালের ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক কাঁঠালের আকার ছোট এবং কিছুটা এবড়ো-খেবড়ো হলেও সার্বিকভাবে ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল গাছ রয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়ুলী এলাকায় কাঁঠালের বাগান বেশি দেখা যায়। এবছর প্রায় এক হাজার ৫০ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি অফিস ধারণা করছে। এছাড়া চাঁদখালী ও পৌরসভার আংশিক এলাকাতেও বিচ্ছিন্নভাবে কাঁঠাল গাছ রয়েছে। তবে এলাকায় পরিকল্পিত কাঁঠাল বাগান খুব বেশি গড়ে ওঠেনি; বেশিরভাগই মিশ্র বাগানে কাঁঠাল চাষ হচ্ছে।
বর্তমানে কাঁঠালের ভরা মৌসুম চলছে এবং বাজারে কাঁঠালের চাহিদা বেশি থাকায় দামও চড়া। স্থানীয় বাজারে আকার ও মানভেদে একটি কাঁঠাল ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকেই কাঁঠাল পাকা শুরু হলেও আষাঢ়-শ্রাবণ মাসকে কাঁঠাল পাকার উৎকৃষ্ট সময় হিসেবে ধরা হয়।
কাঁঠাল শুধু পাকা ফল হিসেবেই নয়, কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর বিচি দিয়ে সুস্বাদু তরকারি রান্না করা হয়, খোসা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পাতা ছাগল, ভেড়া ও গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে কাঁঠালকে একটি বহুমুখী উপকারী ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন জানান, উপজেলায় কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজার মূল্যও সন্তোষজনক। কাঁঠাল গাছ রোপণে তেমন খরচ নেই, শুধু নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। এতে কৃষকরা কম খরচে বেশি লাভবান হতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কাঁঠাল চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।