নারায়ণগঞ্জ শহরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দাবি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আগের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকার কিছু অংশে কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বেশি শোনা যাচ্ছে। রাতের বেলা কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় ছিনতাই ও হুমকির মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অন্যদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগও বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা বা প্রমাণ সবসময় প্রকাশ্যে আসে না, তবুও ভুক্তভোগীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে এবং তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ এতে জড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও মাদক নেটওয়ার্ক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে মনে করছেন অনেকে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা একটি বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিছু কিশোর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, ছোট ছোট গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি ও ভয়ভীতির ঘটনা ঘটছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ ও অপারেশন তারেক আল মেহেদী জানান, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে মাঠ পর্যায়ে জনসাধারণের একটি অংশ মনে করছে, অভিযানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক উদ্যোগ ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
শহরের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, সিসি ক্যামেরা নজরদারি সম্প্রসারণ এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
নারায়ণগঞ্জে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক অভিযোগ সামনে আসায় জনমনে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা এখন প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন, যাতে শহরে স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরে আসে।