আজ নয়, ৩ জুন দেয়া হবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন

ভোরের ডাক ডেস্ক

স্বাস্থ্য

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরো চারদিন সময় পেয়েছে সরকারের উচ্চ

2026-05-30T14:22:41+00:00
2026-05-30T14:22:41+00:00
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
 
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
স্বাস্থ্য
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু
আজ নয়, ৩ জুন দেয়া হবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন
ভোরের ডাক ডেস্ক
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:২২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরো চারদিন সময় পেয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) জাহিদ রায়হান বলেছেন, তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, যে শিশুরা মারা গেছে, তাদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আরো সময় প্রয়োজন। কারণ আসলেই একটি ওয়ার্ডে এত শিশু মারা গেল আর মায়েরা টের পেল না, এমন হয় না।

বুধবার ভোরের দিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশুর সবাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে তাদের মৃত্যু হয়। কোরবানির ঈদের আগের দিন ওই ঘটনা পুরো বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সেদিনই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে শিশুদের মুত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং প্রতিকারের জন্য করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিবকে (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে (হাসপাতাল-১) সদস্য সচিব এবং অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে (আইন শাখা) সদস্য হিসেবে রাখা হয়।

শনিবার (৩০ মে) তাদের প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও এখন তাদের আরো চারদিন সময় দেওয়া হল তদন্ত শেষ করার জন্য।

মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছিলেন ১১ জন প্রসূতি এবং তাদের ছয়জনের ছয়টি বাচ্চা। শিশুগুলোর বয়স এক থেকে তিন দিন। আরো পাঁচটি বাচ্চা চিকিৎসার কারণে আগে থেকেই এনআইসিইউতে (শিশুদের জন্য বিশেষায়িত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ছিল।

বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগছে জানিয়ে রাতে এসি বন্ধ করতে বলেন কয়েকজন মা। ঘণ্টাখানেক পর আবার এসি চালু করা হয়। ভোরের দিকে শিশুগুলোর শ্বাসকষ্টের মত লক্ষণ ও বমিভাব দেখা দেয়। তাদের নেওয়া হয় এনআইসিইউতে। সেখানেই একে একে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সেদিন ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে বলেছিলেন, হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডের যে অংশে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে, সেখানকার পরিবেশ ‘শ্বাসরুদ্ধকর’ ছিল।

আর অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান বলেছেন, চিকিৎসাজনিত কোনো জটিলতায় নয়, ‘কোনো একটা টেকনিক্যাল ফল্টের কারণে’ এ ঘটনাটা ঘটছে বলে তার ধারণা।

এসি থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছিল বলে সেদিন কথা ওঠে। সে কারণে পুলিশের বম ডিসপোজাল ইউনিট সেখানে সেখানে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি ছিল কি না, তা পরীক্ষা করে দেখে।

চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা, কারিগরি ত্রুটি এবং ভিন্ন রকমের গন্ধ–এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা বৃহস্পতিবার বলেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা

তিনি বলেছিলেন, আমরা গতকাল সেখানে গিয়েছিলাম। হাসপাতালে প্রবেশের পর যেমন বাতাসে গন্ধ ছিল, ওই ওয়ার্ডে কিছুটা ভিন্ন ধরনের গন্ধ পাওয়া গেছে।

তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান শুক্রবার বলেন, আমরা জেনেছি একজন মা রাত ৪ টায় নার্সদের ডেকেছিলেন৷ কত সময় পর তারা মা ও শিশুদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিয়েছিল সেটা জানা দরকার। এমন কিছু ব্যাপারে সাক্ষাৎকারের জন্য তদন্ত কমিটি সময় চেয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আমরা চাই একটি নির্মোহ রিপোর্ট উঠে আসুক। সেজন্য আমরাও কমিটিকে সময় দিতে চাই।

মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে একজনের বাবা ইতোমধ্যে ‘অবহেলার’ অভিযোগে এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করেছেন।

এছাড়া ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে উকিল নোটিস দিয়েছেন এক আইনজীবী।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) এবং আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালককে সেখানে বিবাদী করা হয়েছে।


Loading...
Loading...

স্বাস্থ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: