রাজধানীর মিরপুর–এর এই ঘটনাটি গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে মানুষকে। মাত্র ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তার–এর হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা মেয়েকে কবর দিয়ে আজ স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের মাঝে তাকে খুঁজেছেন—এই দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে কাঁদিয়েছে।
রামিসা রাজধানীর মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। পপুলার মডেল স্কুল–এর শ্রেণিকক্ষে গিয়ে তিনি মেয়ের সহপাঠীদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছোট ছোট সহপাঠীরাও তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আবেগ তৈরি করেছে।
একে অপরকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কান্না যেন কারওই থামছিল না।
কান্না করতে করতে রামিসার সহপাঠীরা বলে, রামিসাকে কখনোই ভোলা যাবে না। এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। খুনি যেন কোনোভাবেই পার না পায়।
এদিকে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সারা দেশ। এমন জঘন্যতম নৃশংসতার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ করে সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। এ সময় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানান তারা।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এলাকাবাসী ও সহপাঠীরা পল্লবী থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে থানার ভেতরে ঢুকে পড়েন তারা। রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগারে না রেখে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। এ সময় রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান বক্তারা।
রাজধানীর বাইরেও দেশের বিভন্ন এলাকায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সর্বস্তরের মানুষ।
পুলিশের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার পল্লবী এলাকায় রামিসাকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার–কেও আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রামিসার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সিরাজদীখান উপজেলার মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে। সেখানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে এক ভিডিও বার্তায় রামিসার বাবা দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমন ঘটনার বিচার শেষ পর্যন্ত চাপা পড়ে যায়—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বিচার নিয়ে আস্থা হারিয়েছেন।