প্রথমবারের মতো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) তিন লাখ কোটি টাকার সীমা ছাড়াতে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে প্রস্তাবিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বেশি।
শনিবার (৯ মে) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী ১৬ মে আরেকটি সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চলতি মাসেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন দেওয়া হবে, যা পরে জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রস্তাবিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ১২১টি প্রকল্প রয়েছে।
চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি দুর্বল। প্রথম ৯ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও সরকার বড় আকারের এডিপি গ্রহণ করছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, খসড়া এডিপির মোট মূল বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে আরও ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা যুক্ত হবে। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
খসড়া অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের তুলনায় শিক্ষা খাতে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।
বরাদ্দের শীর্ষ ৫ খাত:
১. পরিবহন ও যোগাযোগ: ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা
২. শিক্ষা: ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা
৩. স্বাস্থ্য: ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা
৪. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা
৫. গৃহায়ণ: ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা