আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা। নতুন পোশাক ও নানা পণ্যের সমাহারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও একই সঙ্গে বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে অনেক পণ্যের দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৭ মার্চ) ছুটির দিনে রাজধানীর নিউ সুপারমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, চাঁদনী চক মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন মার্কেটে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার ঈদ উপলক্ষে নারীদের পোশাকে এসেছে নানা বৈচিত্র্য। ফারসি ধাঁচের সালোয়ার-কামিজ, পাকিস্তানি ও ভারতীয় নকশার পোশাক, কুর্তি, সিঙ্গেল কামিজ, টু-পিস, সারারা ও ঘারারা—এসব পোশাকের চাহিদা বেশি দেখা গেছে বিশেষ করে গাউছিয়া এলাকার দোকানগুলোতে।
তবে পোশাকের বাজার জমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা। রাজধানীর জিনজিরা বাজার, নয়াবাজার ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পোলাওয়ের চাল কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।
এ ছাড়া মুগ ডালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। কক মুরগি ৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২০০ টাকায়।
পাশাপাশি দুধ, চিনি, সেমাই, কিসমিস ও মসলার দামও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। গুঁড়া দুধের মধ্যে ডানো কেজিপ্রতি ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা ৯২০ টাকা, ফ্রেশ ৮৯০ টাকা ও মার্কস ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চিনি ১০৫ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, রসুন সর্বোচ্চ ২৪০ টাকা এবং হলুদ কেজিপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নয়াবাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, রমজান এলেই ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। ঈদের আগে আবার নতুন করে দাম বাড়ানো হয়, ফলে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যবসায়ী অতিমুনাফা করার চেষ্টা করে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে হলে বাজারে নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে এবং বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীতে ছয়টি ভ্রাম্যমাণ টিম বাজার মনিটরিং করেছে এবং বিভাগীয় পর্যায়েও তদারকি অব্যাহত রয়েছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।