নিউ জার্সির গভর্নর নির্বাচনে প্রতিনিধি মিকি শেরিল (ডি–এন.জে.) রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক রাজ্য পরিষদ সদস্য জ্যাক সিয়াতারেলিকে পরাজিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সূচনার পর ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি প্রথম বড় নির্বাচনী সাফল্য।
শেরিল, যিনি উত্তর নিউ জার্সির একটি জেলা থেকে চতুর্থ মেয়াদে কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তৃতীয়বারের মতো গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিয়াতারেলির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন। সিয়াতারেলি ২০২১ সালে তৎকালীন গভর্নর ফিল মারফির (ডি) কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। মারফি মেয়াদসীমার কারণে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নির্বাচনটি ক্রমেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিছু জরিপে এটি ‘টোস-আপ’ বা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হিসেবে দেখা যায়, কারণ দুই প্রার্থীই ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়ছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল ১৯৬১ সালের পর প্রথমবারের মতো টানা তিনবার একই দলের প্রার্থীকে গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত করা। এছাড়া রাজ্যে বসবাস ব্যয়ের সংকটে ক্ষুব্ধ ভোটারদের মন জয় করাও ছিল কঠিন, যখন গভর্নর পদ ও রাজ্য আইনসভা উভয়ই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জন্য প্রধান বাধা ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয়তা। যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলটি কিছু অগ্রগতি দেখিয়েছে, মারফি চার বছর আগে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন, এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিসও গত বছর ট্রাম্পকে মাত্র ছয় পয়েন্টে হারিয়েছিলেন। এমারসন কলেজ, পিক্স১১ ও দ্য হিলের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে ট্রাম্পের অনুমোদন হার ৫১ শতাংশ নেতিবাচক। এই জনপ্রিয়তা–সংকট সিয়াতারেলিকে জটিল অবস্থায় ফেলে দেয়—তাকে এমন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হয় যেখানে তিনি প্রেসিডেন্টের সমর্থনও চান, আবার কিছুটা দূরত্বও বজায় রাখতে চান।
ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনের মূল ইস্যু বানান ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে, সিয়াতারেলিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করেন। বিপরীতে রিপাবলিকানরা রাজ্যে টানা ডেমোক্র্যাট শাসনের বিরুদ্ধে ভোট চাওয়ার কৌশল নেয়।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও ব্যক্তিগত রূপ নেয় দুই প্রার্থীই একে অপরের অতীত ও চরিত্র নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। সিয়াতারেলি শেরিলের ইউ.এস. নেভাল একাডেমিতে কাটানো সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কারণ ১৯৯৪ সালে স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি মঞ্চে হেঁটে যাননি বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
শেরিলের ব্যাখ্যা ছিল, তিনি হাঁটেননি কারণ সহপাঠীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করায় তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল—সেই সহপাঠীরা একাডেমির একটি বড় পরীক্ষার জালিয়াতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিল। সিয়াতারেলি শেরিলকে তাঁর সামরিক শাস্তির নথি প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
এদিকে শেরিল অভিযোগ করেন, সিয়াতারেলির এক সহযোগী তাঁর সামরিক নথির একটি প্রায় অনসেন্সরড কপি সংগ্রহ করেন, যেখানে তাঁর ও পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশিত হয়। সিয়াতারেলি কোনো দায় স্বীকার করেননি, এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস এই ঘটনার দায়িত্ব নেয়।
শেরিল আরও অভিযোগ করেন যে সিয়াতারেলি ও তাঁর মালিকানাধীন একটি চিকিৎসা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ওপিওয়েড সংকট তীব্র করার সঙ্গে জড়িত, যদিও সিয়াতারেলি তা অস্বীকার করেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে দুটি রাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাট অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার রিপাবলিকান উইনসোম আর্ল-সিয়ার্সকে পরাজিত করে মেয়াদোত্তীর্ণ গভর্নর গ্লেন ইয়াংকিনের (আর) উত্তরসূরি হন।