বাংলাদেশ ও ইউনিসেফের মধ্যে শিশু কল্যাণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৪০ পিএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৫ ৬:৪৪ পিএম (ভিজিটর : ৪৭২)
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম সম্প্রতি ইউনিসেফ প্রতিনিধি ড. এডওয়ার্ড অ্যাড্ডাই-এর সঙ্গে এক সৌজন্যমূলক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউনিসেফ মালদ্বীপে বসবাসরত শিশু কল্যাণ, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসী শিশুদের অন্তর্ভুক্তি ও সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার করেন। আজ মঙ্গলবার দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে ড. নাজমুল ইসলাম শিশুদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং শান্তি, কূটনীতি এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিও বটে। তিনি আজকের বিশ্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার অপরিহার্যতা তুলে ধরেন।
প্রবাসী শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের প্রতিশ্রুতি ইউনিসেফ প্রতিনিধি ড. এডওয়ার্ড অ্যাড্ডাই মালদ্বীপের অর্থনীতিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ইউনিসেফ মালদ্বীপে অবস্থানরত সব শিশুর, বিশেষ করে বাংলাদেশি শিশুদের, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি হাইকমিশনকে ১৮ বছরের নিচে বাংলাদেশি শিশুদের কোনো প্রাথমিক সামাজিক সেবার প্রয়োজন হলে ইউনিসেফকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।
ড. অ্যাড্ডাই শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বিষয়ক উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে ইউনিসেফ মালদ্বীপ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আরও প্রস্তাব করেন যে, ইউনিসেফ মালদ্বীপ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, মালদ্বীপ সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা গড়ে তুলে শিশুদের জন্য আরও শক্তিশালী সামাজিক সেবা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ শিশুদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তি, আনন্দ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে শিশু উৎসব, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সৃজনশীল কার্যক্রম আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করেন।
ড. এডওয়ার্ড অ্যাড্ডাই শিশুদের ও শিক্ষাবিষয়ক ড. মোঃ নাজমুল ইসলামের দৃঢ় অঙ্গীকার এবং নেতৃত্বকে স্বীকৃতি জানিয়ে আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব শিশু দিবস-এর অনুষ্ঠানে তাঁকে “গেস্ট অব অনার” হিসেবে আমন্ত্রণ জানান।
প্রত্যুত্তরে হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম ইউনিসেফের এসব উদ্যোগকে উষ্ণ স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।