আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২৩৭ আসনে নিজেদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
এ সময় তিনি ঢাকা- ৪ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন ও ঢাকা- ৫ আসনে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক নবী উল্লাহ নবীকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
এদিকে এই দুই নেতাকে বিএনপি'র মনোনয়ন প্রদানের সঙ্গে সঙ্গেই শ্যামপুর-কদমতলী ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মী,সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তানভীর আহমেদ রবিন ও নবী উল্লাহ নবীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। বিশেষ করে শ্যামপুর কদমতলীর থানার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিট বিএনপি সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা- ৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদকে রবিনকে অভিনন্দন জানিয়ে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল করেছে।
একইসঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শ্যামপুর কদমতলী দলীয় নেতা কর্মীসহ বিভিন্ন অপরদিকে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা- ৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি প্রায় সব ওয়ার্ডে আনন্দ মিছিল আনন্দ মিছিল করেছে। দলীয় নেতা কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষও নবী উল্লাহর সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার শ্যামপুর-কদমতলী ও ডেমরা- যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই দুই নেতার মনোনয়নে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মের ও পেশার সাধারণ মানুষ উৎফুল্ল।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্যামপুর থানার সাধারণ সম্পাদক বিলাস পোদ্দার ভোরের ডাককে বলেন, আমাদের ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকায় তানভীর আহমেদ রবিন ভাই বিএনপি'র মনোনয়ন পাওয়ায় আমরা সকলেই আনন্দিত। আমি ব্যক্তিগত ভাবে শুধু না অত্র এলাকার সকল ধর্মের মানুষ রবীন ভাইকে পছন্দ করেন।
৫ আগস্ট এর পরবর্তী সময়ে তিনি যেভাবে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থেকেছেন তাতে আমরা অভিভূত। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। আমার বিশ্বাস আগামী নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে সকলেই তাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে ঢাকা- ৪ আসনের এমপি নির্বাচিত করবেন।
অভিন্ন কথা বলেছেন কদমতলীর বাসিন্দা রাজন আহমেদ শিশির। তিনি বলেন, রবিন ভাইকে আমরা অনেকদিন ধরেই চিনি। বিএনপির পক্ষ থেকে তার মনোনয়ন পাওয়ায় আমাদের কদমতলীবাসী অত্যন্ত খুশি এবং আনন্দিত। তিনি নতুন প্রজন্মের পাশাপাশি অত্র এলাকার সকল মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং নন্দিত । আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এদিকে ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবী মনোনয়ন পাওয়ার পর ডেমরা- যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় খন্ড খন্ড মিছিল হয়েছে নবীর সমর্থনে। ডেমরা স্টাফ কোয়াটার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে ভোরের ডাককে বলেন, নবী উল্লাহ নবীকে বিএনপি এ আসলে মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা খুশি হয়েছি। দল মত নির্বিশেষে সকলেই তাকে ভোট দেবেন। তিনি অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে অত্র এলাকায় পরিচিত। আমার বিশ্বাস নিজেদের দলীয় নেতা কর্মীদের পাশাপাশি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের ভোট নবীউল্লাহ নবী পাবেন এবং বিপুল ভোটে বিজয় হবেন।
এ ব্যাপারে সারুলিয়ার বাসিন্দা শ্রী বিধান চন্দ্র দাস বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নবী উল্লাহ নবী ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। পূজার সময় তিনি আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তার ব্যবহার অত্যন্ত ভালো। হিন্দু সম্প্রদায় সহ সকল সম্প্রদায়ের তিনি মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। আগামী নির্বাচনে তার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, বিগত ১৫ বছরে বেশি সময় ধরে দলের দুঃসময়ে তানভীর আহমেদ রবিন ও নবী উল্লাহ নবী দুই নেতাই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিজেদের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন।
বিগত সরকারের দমন নিপীড়নের শিকার হয়েও সরকার বিরোধী আন্দোলনে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে তানভীর আহমেদ রবিন ও নবীউল্লা নবীকে। দলের প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের কারণে সোমবার দল থেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় মনোনয়ন পান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি'র প্রভাবশালী এই দুই নেতা। দলীয় কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় রবিন ও নবী উল্লাহর সমৃদ্ধ পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকায় সাধারণ মানুষের ভোটও ধানের শীষের বাক্সে যাবে বলে মনে করেন ঢাকা-৪ ও ৫ নির্বাচনী এলাকার নির্দলীয় ভোটারা।