ই-পেপার বাংলা কনভার্টার শনিবার ২ মার্চ ২০২৪ ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০
ই-পেপার শনিবার ২ মার্চ ২০২৪
ব্রেকিং নিউজ: বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীকে নরেন্দ্র মোদির চিঠি      এবার গাউসুল আজম মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড      হজযাত্রীদের জন্য সুখবর দিলো সৌদি আরব      বন্দিরকে মুঠোফোন এনে দেয়ায় কারারক্ষী বরাখস্ত      যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম সেনাবাহিনী গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী      ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২      




ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল করেছি, ধীরে ধীরে স্মার্ট ক্যাম্পাস হবে: ইবি উপাচার্য
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
Published : Monday, 4 December, 2023 at 6:54 PM
অনিন্দ্য সুন্দর বাহারি রাঙা ফুলেল ক্যাম্পাস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের মধ্যবর্তী স্থানে স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম এই বিদ্যাপিঠ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে ৪৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। গৌরবময় পথচলায় ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে উপযোগী বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নানামুখী সমস্যা ও সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভোরের ডাকের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক মোতালেব বিশ্বাস লিখন।

ভোরের ডাক : বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনে ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে আপনি কি সফল?

উপাচার্য : বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য থাকা উচিত জ্ঞান সৃজন ও জ্ঞান বিতরণ। পঠন পাঠনের সার্বিক দিক থেকে আমরা ঠিকই আছি। গবেষণার ক্ষেতে ব্রান্ডিংটা আছে কি না সে ব্যাপারে আমি খুব বেশি নিশ্চিত না। আমাদের গবেষক সংখ্যা ও শিক্ষকদের মনোনিবেশ উল্লেখযোগ্য। শিক্ষকেরা প্রতিবছর থেকে ইউজিসি থেকে মন্ত্রণালয় প্রস্তাব প্রেরণ করেন সেসব জায়গায় গবেষণা করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় না সারা বাংলাদেশের গবেষক যারা পৃথিবীর সর্বোচ্চ গবেষণা মূল্যায়ন ওই পর্যায়ে উপনীত হয়েছে কিনা সেই ব্যাপারে এখনো প্রশ্ন আছে। 

ভোরের ডাক : ৪৫ বছরে বর্তমান উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বৃদ্ধি বিষয়ে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন?

উপাচার্য : আমরা হয়তো উন্নতদেশগুলোর শিক্ষার মানের থেকে পিছিয়ে আছি কিন্তু আমি তাদের ছোঁয়া ছোঁয়া মতো অবস্থায় আছি। আমাদের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দশ বছরে সবাই আমাদের সৃজন ও অগ্রগতি বুঝতে পারবে। আগামীতে আমরা কাউকে স্পর্শ করব, কাউকে ছাড়িয়ে যাব, কারো সাথে সংযুক্তি ঘটাব এবং এরমধ্যে থেকেই আমাদের গবেষণার সৃজন লক্ষ্যনীয় হবে। 

ভোরের ডাক : আবাসিক হলগুলোতে খাবারের দামের সাথে শিক্ষার্থীরা কুলিয়ে উঠতে পারছে না। হলগুলোতে ভর্তুকি বাড়ানোর ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা আছে?

উপাচার্য : জীবনে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে, কোনো প্রতিষ্ঠানে এই সমস্যার সমাধান করলেও ফুল স্যাটিসফেকশনে অতৃপ্তি থেকেই যায়। বাংলাদেশে দ্রবমূল্যের যত দাম, তার ভেতর থেকেই যে আবাসিক হলগুলো খাবার দিতে পারছে, এখানে ব্যবস্থাপনায়ও সমস্যা আছে। অতৃপ্তি থাকলেও আবাসিক হলে এর থেকে বেশি আশা করাটাও ভোগান্তীর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই সময় যে খাবার খাচ্ছে এটা তাদের জন্য একেবারেই কাম্য নয়। আমরা গত কয়েকমাস আগে ভর্তুকি বাড়িয়েছি। এগুলো চাইলেই তো আমরা পারি না। আমরা চেষ্টা করি সবসময় আমাদের শিক্ষার্থীদের ভালো রাখার। কিন্তু আমাদের দুঃখ নিয়ে বলতে হয় স্বাদ আছে কিন্তু সাধ্যে নেই। আমার সন্তানদের আমি যে খাবার দিব তা দিতে পারি না, আমাদের যতটুকু দেওয়ার আমরা চেষ্টা করছি। 

ভোরের ডাক : বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নেই। আপনি কি এ ব্যাপারে কিছু ভাবছেন? ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য : এটা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই নেই। সারা বাংলাদেশের কথা বাদ দিয়ে আমি তো সিঙ্গেলভাবে ভাবতে পারিনা। আমরা তো বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটাতে পারবো না। যদি সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রসংসদ নিশ্চিত করে আমরা আশা করি সেই তালিকায় আমরাই এগিয়ে থাকব। 

ভোরের ডাক : সরকার ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশের পক্ষে স্মার্ট ক্যাম্পাস নিয়ে আপনি কী কী উদ্যেগ গ্রহন করছেন?

উপাচার্য : সময়মতো কার্য সম্প্রদান হলো স্মার্ট কাজ। আমরা এখনই আমাদের ক্যাম্পাসকে স্মার্ট ক্যাম্পাস ঘোষণা করবো বিষয়টি এমন না। কখন কীভাবে স্মার্ট ক্যাম্পাসে যাব তাও বলা যাচ্ছে না। আমরা ইতোমধ্যে ই-পেমেন্ট সেবা বাস্তবায়ন করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল করেছি। আস্তে আস্তে স্মার্ট ক্যাম্পাস হবে। 

ভোরের ডাক : স্মার্ট ক্যাম্পাস ও অনলাইন ক্লাস এগুলোর জন্য দরকার উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ইন্টারেনেট। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য : আমি আইসিটি সেলে কথা বলেছি। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই ব্যাপারে সাহায্য করবে। এই ব্যাপারে আইসিটি সেলের পরিচালক ভালো জানাতে পারবে। কিন্তু আমরা খুবই দ্রুত বেনিফিট দেখতে চলেছি। 

ভোরের ডাক : বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই
উপাচার্য : আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের জায়গা থেকে দ্রুত দৌঁড়াতে চাই না। ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ধীরে ধীরে প্রয়োজন মোতাবেক এগোতে চাই। নিদিষ্ট সময়ে যতটুকু মানোন্নয়ন করা উচিত চেষ্টা করেছি, ভবিষ্যতেও করব। 

ভোরের ডাক : বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তিন বছর পার করেছেন। উপাচার্য হিসেবে তিন বছরে আপনার সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়নে কী বলবেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন?

উপাচার্য : আমার সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা করতে পারবেন। নিজের সফলতা ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন নিজে করা যায় না। তবে বলতে পারি অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো খাত বিশাল উন্নতির দিকে রয়েছে। 
ভোরের ডাক : বিভিন্ন ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকে ১৭৮ দিন। মাসের হিসেবে ৬ মাস। অনলাইন ক্লাস প্রতি সোমবারকে প্রায় বন্ধই বলা যায়। প্রতি সোমাবারে আরও ৫২ দিন। মাসের হিসেবে ১ মাস ২২ দিন। মোট ৭ মাস ২০ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকে। এতে সেশনজট আরও বাড়বে বলে জানান শিক্ষকরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের ভাবনা কী?

উপাচার্য : বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষের ছোট করার প্রবণতা আছে। আমাদের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে কম্পেয়ার করতে হবে। এমন তো না কোন মারামারি বা সংঘর্ষের কারণে এতদিন ছুটি। এসব সরকারি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ছুটি। তবে অনলাইন ক্লাস সোমবারে, এটা ছুটির মধ্যে পড়ে না। এইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা অনলাইন ক্লাসের উপস্থিত বিবেচনা করেন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু থাকে। 

ভোরের ডাক: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

উপাচার্য : দৈনিক ভোরের ডাককেও অসংখ্য ধন্যবাদ।









সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭, ০১৭১২-৮৮৪৭৬৫
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭, ০১৭১২-৮৮৪৭৬৫
ই-মেইল : [email protected], [email protected]